বাংলাদেশের সর্বাধিক মঞ্চায়িত নাটক


কাহিনী সংক্ষেপ
‘কঞ্জুস’ এক হাড় কিপ্টে বুড়ো হায়দার আলীর গল্প। পুরান ঢাকার বাসিন্দা হায়দার আলী, বয়স ঘাট, একমাত্র পুত্র কাযিম আলী ও একমাত্র কন্যা লাইলী বেগমকে নিয়ে তার সংসার। স্ত্রী বেঁচে নেই, তবে সংসারে রয়েছে কয়েকজন বাকপটু ও চতুর চাকর বাকর যারা আবার তাদের প্রভু হায়দার আলীর সকল দুর্বলতা সম্পর্কে ভালোই অবগত। এরা হলো- লাল মিয়া, কালা মিয়া ও বদি মিয়া। তবে ঘটনাক্রমে জানা যায় যে, এদের মধ্যে বদি মিয়া প্রকৃত চাকর নয়, বরং চাকরের ছদ্মবেশে হায়দার কন্যা লাইলীর প্রেমিক, যারা গভীর প্রেমে হাবু-ডুবু খাচ্ছে।
মহল্লায় হায়দার আলীকে সকলে কঞ্জুস প্রকৃতির লোক বলেই জানে এবং তার নামে অনেক কথাই প্রচলিত আছে। যেমন-টাকা খরচের ভয়ে তিনি বছরে ৩ মাস রোজা রাখার নিয়ম চালু করেছেন, বেতন দেয়ার ভয়ে চাকর বাকরদের চুরির অভিযোগ দিয়ে বিতাড়ন করেন, তাদের সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেন ইত্যাদি। যা হোক, নাটকের কাহিনী ভিন্ন দিকে মোড় নেয় যখন এই হায়দার আলী পাশের মহলার অষ্টাদশী মর্জিনা বেগমকে বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন, যার সাথে পূর্ব থেকেই তার নিজের পুত্র কাযিম আলীর প্রথম দর্শনেই প্রেম হয়েছে। কিন্তু হায়দার কাযিমের প্রেমকে স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো তার সাথে এক বিধবা মহিলার বিয়ে ঠিক করেন। অন্যদিকে কন্যা লাইলীকে তারই বন্ধু পঞ্চাশ বছর বয়সী আসলাম বেগ এর সাথে বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেন যাতে কোন যৌতুক দিতে না হয় এবং তার কোন টাকা পয়সা খরচ না হয়। এই অবস্থায় হায়দার গোলাবজানের সহায়তায় মর্জিনা এবং মির্জা আসলাম বেগকে বাড়িতে দাওয়াত করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে লাল মিয়ার সহায়তায় তার পুত্র কাযিম তারই লুকিয়ে রাখা টাকার কলস চুরি করে। কালা মিয়ার প্ররোচনায় হায়দার এই জন্য চাকররূপি বদি মিয়াকে চোর সাব্যস্ত করে। এই অবস্থায় নানা নাটকীয় ঘটনার পর জানা যায় যে, মর্জিনা বেগম এবং চাকরের ছদ্মবেশে থাকা বদি মিয়া হায়দারের বন্ধু আসলামেরই হারিয়ে যাওয়া পুত্র কন্যা। পরিশেষে নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে হায়দার পুত্র কাযিমের সাথে আসলাম কন্যা মর্জিনার এবং আসলাম পুত্র বদিউজ্জামানের সাথে হায়দার কন্যা লাইলী বেগমের বিয়ের মাধ্যমে নাটকের মিলনাত্মক সমাপ্তি।






















